অনুচ্ছেদ “বাংলাদেশের পোশাক শিল্প”
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প
মানুষের পরিধেয় কাপড়-চোপড় অর্থাৎ পোশাক উৎপাদনকে কেন্দ্র করে যে শিল্প ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাকে পোশাক শিল্প বলে। সৃষ্টির আদি থেকেই মানুষ পোশাক ব্যবহার করে আসছে। তাই সর্ভতার উন্নয়নের সাথে সাথে তৈরি পোশাকের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। পনেরো শতকে ইতালিতে রেনেসাঁর ফলে পোশাক তৈরি একটি শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। শিল্প বিপ্লবের পর এই ধারা আরও গতিশীর হয়। বাংলাদেশে স্বাধীনতার আগে পোশাক শিল্পখাত সম্পর্কে ব্যবসায়ী মহলে তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল না। মূলত ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র পরিসরে পোশাক শিল্পে যাত্রা শুরু হয়। আশির দশকের গোড়ার দিকে এ শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটে। মূলত বেসরকারি উদ্যেগেই এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ১৯৮৩ সালে মাত্র ৫০টি কারখানা ছিল, বর্তমানে তা প্রায় পাঁচ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এসব পোশাক শিল্প কারখানা প্রায় ৪০-৪৫ লক্ষ মানুষ সরাসরি জড়িত, যা দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ২৫% বর্তমানে পোশাক শিল্পখাত দেশের রপ্তানি করে। আমাদের তৈরিকৃত পোশাকের ক্রেতা দেশগুলো হলো- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানী, ফ্রান্সসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ্ তবে যুক্তরাষ্ট্রই হলো বাংলাদেশি পোশাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। মোট রপ্তানি আয়ের ৬০% এ দেশটি থেকে অর্জিত হয়। এত কিছুর পরিবেশ উন্নত না হওয়ায় তাজরিন ফ্যাশন এবং নানা রানা প্লাজার মতো ট্র্যাজেডি সংঘটিত হয়। এসব দুর্ঘটনায় হাজার হাজার শ্রমিক অকাতরে মারা যায়। এজন্য সরকারের উচিত এ খাতের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া।
Share This Post